অসুস্থ অবস্থায় কোন বাক্যগুলি পাঠ করলে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবেন?

*অসুস্থ অবস্থায় কোন বাক্যগুলি পাঠ করলে জাহান্নাম থেকে রক্ষা পাবেন?*
🍃🌟🍃🌟🍃🌟🍃

আবূ সা‘ঈদ খুদরী (রাঃ) এবং আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তাঁরা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি সাক্ষ্য দিচ্ছেন যে, তিনি বলেছেন,

*‘‘যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, আল্লাহু আকবার’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَاللهُ أكْبَرُ]* (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই এবং আল্লাহ সবচেয়ে বড়) বলে, আল্লাহ তার সত্যায়ন করে বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমি সবচেয়ে বড়।’

আর যখন সে বলে *‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু অহদাহু লা শারীকা লাহ’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ وَحدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ]* (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোন অংশী নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আমি একক, আমার কোন অংশী নেই।’

আর যখন সে বলে *‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, লাহুল মুলকু অলাহুল হাম্দ’ [لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ لَهُ المُلْكُ وَلَهُ الحَمْدُ]* (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁরই যাবতীয় প্রশংসা), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, সার্বভৌম ক্ষমতা আমারই এবং আমারই যাবতীয় প্রশংসা।’

আর যখন সে বলে, *‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অলা হাওলা অলা ক্বুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ [لاَ إله إِلاَّ اللهُ وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ باللهِ]* (অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আল্লাহর প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই), তখন আল্লাহ বলেন, ‘আমি ছাড়া কোন (সত্য) উপাস্য নেই এবং আমার প্রেরণা দান ছাড়া পাপ থেকে ফিরার এবং সৎকাজ করার বা নড়া-চড়ার শক্তি নেই।’

নবী (সাঃ) বলতেন, *‘‘যে ব্যক্তি তার অসুস্থ অবস্থায় এটি পড়ে মারা যাবে, জাহান্নামের আগুন তাকে খাবে না।’’ (অর্থাৎ সে কখনো জাহান্নামে যাবে না।)*

(সূনান আত তিরমিজী [তাহকীককৃত] – ৩৪৩০, দোয়া অধ্যায়)

ইসলাম, ঈমান, ইহসান কাকে বলে?

আল্লাহর রাসুল (সাঃ) ও জীব্রিল (আঃ) এর মুখেই
জেনে নিন>>

১) ইসলাম কাকে বলে?
২) ঈমান কাকে বলে?
৩) ইহসান কাকে বলে?
৪) কিয়ামতের লক্ষণ কি?

عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ قَالَ بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلىَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ عَلَيْنَا رَجُلٌ
উমর ইবনু খাত্তাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, একদা আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে ছিলাম। এমন সময় একজন লোক আমাদের কাছে এসে হাযির হলো।
شَدِيدُ بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ سَوَادِ الشَّعَرِ لاَ يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَرِ وَلاَ يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صَلىَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخِذَيْهِ
তাঁর পরিধানের কাপড় ছিল সাদা ধবধবে, মাথার কেশ ছিল কুচকুচে কালো। তাঁর মধ্যে সফরের কোন চিহ্ন ছিল না। আমরা কেউ তাঁকে চিনি না। তিনি নিজের দুই হাঁটু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই হাঁটুর সাথে লাগিয়ে বসে পড়লেন আর তার দুই হাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দুই উরুর উপর রাখলেন।
وَقَالَ يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلاَمِ‏
তারপর বললেন, হে মুহাম্মদ! ইসলাম সস্পর্কে আমাকে অবহিত করুন।
‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلىَّ اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন;
الإِسْلاَمُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضَانَ وَتَحُجَّ الْبَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً
ইসলাম হল; তুমি সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ব্যতীত সত্যিকার কোন ইলাহ নেই আর অবশ্যই মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, সালাত কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, রমাদ্বনের সিয়াম পালন করবে, বায়তুল্লাহ পৌঁছার সামর্থ্য থাকলে হাজ্জ করবে।
‏قَالَ صَدَقْتَ
তিনি (জিব্রীল আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন।
قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِيمَانِ
তারপর তিনি বললেন, ঈমান সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন।
قَالَ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ
‏ঈমান হল; তুমি বিশ্বাস করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফিরিশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাব সমূহের প্রতি, তাঁর রাসূলগণের প্রতি ও শেষ দিবসের (আখিরাতের) প্রতি এবং ভাগ্যের (তাক্বদীরের) ভাল মন্দের প্রতি বিশ্বাস করবে।
قَالَ صَدَقْتَ
তিনি (জিব্রীল আলাইহিস সালাম) বললেন, আপনি সত্য বলেছেন।
قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ
তারপর তিনি বললেন, ইহসান সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন।
قَالَ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ
ইহসান হলো; তুমি এমনভাবে ইবাদত করবে, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ, যদি তুমি তাকে না দেখ, তাহলে ভাববে তিনি তোমাকে দেখছেন।
‏ قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ
তারপর জিজ্ঞাসা করলেন, কিয়ামত সস্পর্কে আমাকে অবহিত করুন।
قَالَ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ
এ বিষয়ে প্রশ্নকারীর চাইতে যাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে তিনি অধিক অবহিত নন।
قَالَ فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَتِهَا ‏
তিনি (জিব্রীল আলাইহিস সালাম) বললেন, তাহলে এর আলামত সস্পর্কে আমাকে অবহিত করুন।
قَالَ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,
أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ
তা হলো; দাসী তার প্রভুর জননী হবে; আর নগ্নপদ, বিবস্ত্রদেহ দরিদ্র মেষ পালকদের বিরাট বিরাট অট্টালিকার প্রতিযোগিতায় গর্বিত দেখতে পাবে।
فَذَاكَ مِنْ أَشْرَاطِهَا فِي خَمْسٍ مِنَ الْغَيْبِ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ ثُمَّ قَرَأَ
এটি গায়েবের পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানেন না। অতঃপর তিনি (এই আয়াত) তিলাওয়াত করলেন;
إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا ۖ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ
নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে আর তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, আর তিনি জানেন জরায়ূতে যা আছে আর কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে সে মারা যাবে; নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত। (লুকমান, ৩১/৩৪)
قَالَ ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيًّا
তিনি (উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বললেন; অতঃপর আগন্তুক প্রস্থান করলেন। আমি কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম।
ثُمَّ قَالَ لِي
তারপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন;
‏يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ
হে উমর! তুমি কি জান, প্রশ্নকারী কে?
قُلْتُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ
আমি আরয করলাম; আল্লাহ ও তাঁর রাসুল ভাল জানেন।
قَالَ
রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন;
‏ فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ
তিনি জিব্রীল।
أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ
তোমাদেরকে দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।
(সহীহুল বুখারী: হা/৫০, ৪৭৭৭; সহীহ মুসলিম: হা/১, ৫, ৭)